গুগোল একটি ওয়েবসাইট কখন এবং কিভাবে প্রথম পেজে নিয়ে আসে অর্থাৎ প্রথম পেজে রেঙ্ক করে এ সম্পর্কে আমাদের নানা জনের নানা মতামত আছে। কারণ- আমরা বিভিন্ন লোক বিভিন্ন ভাবে এর উত্তর দিয়ে থাকি। কিন্তু, গুগোল কিভাবে একটি ওয়েবসাইট রেঙ্ক করে বা ওয়েবসাইটটি প্রথম পেজে নিয়ে আসে এটা আমাদের জানা জরুরী। সবাই বলে একটি ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসতে হলে এসইওর বিকল্প নাই। আসলে এটা আমরা সবাই জানি। একটি সাইট গুগলে রাঙ্ক করানোর ক্ষেত্রে আমরা যে কলাকৌশল অবলম্বন করি মূলত এটাই এসইও। তারপরও গুগোল কেন বিশেষ কিছু সাইটগুলোকে প্রথম পেজে নিয়ে আসে। তাহলে নিশ্চয়ই ওই সাইট গুলোর মধ্যে বিশেষ কিছু দেয়া আছে যা একজন ইউজার এর চাহিদার পরিপেক্ষিতে গুগোল ওই ওয়েবসাইট গুলো প্রথম পেজে দেখায়। আপনি কি বলতে পারেন গুগোল যাদেরকে প্রথম পেজে দেখায় তারা আসলে কি করে অর্থাৎ তাদের এসইও টেকনিক গুলো কি কি? এটা বলা হয়তোবা কঠিন আবার সহজ বটে-

গুগোল কিভাবে রেঙ্ক দেয়?

গুগোল মূলত কোন একটি ওয়েবসাইটকে প্রথম পেজে নিয়ে আসার জন্য সেই ওয়েবসাইটের কিছু রিসোর্স বা ভালো দিক গুলো দেখে এবং এই বিষয়টা কে গুগোল রেঙ্ক ফ্যাক্টর বলে। প্রায় ২০০ এর বেশি গুগোল রেঙ্ক ফ্যাক্টর আছে। একজন ওয়েব ডেভেলপার যখন সে ওয়েবসাইটে কাজ করে তখন গুগলের রেঙ্ক ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে তাকে ভালোভাবে জানতে হয় ও সেই অনুপাতে সাইটে কাজ করতে হয়। তখন গুগোল অ্যালগরিদম ওই ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে দেখে যে সাইট টি রেঙ্ক পাওয়ার যোগ্য কিনা অর্থাৎ, রেঙ্ক পাওয়ার জন্য সাইট টি কতটুকু অপ্টিমাইজ করা। যদি সব ঠিক থাকে তবেই গুগোল ওই সাইট কে রেঙ্ক দেয় এ ছাড়া সম্ভব না। এই অপটিমাইজ সিস্টেমটাকে আমরা এসইও বলে থাকি।

কেন গুগোল একটি সাইট কে রেঙ্ক দেয় আর অন্যটি কে দেয় না?

আমরা তো কমবেশি সবাই একটি সাইট রেঙ্ক করার ক্ষেত্রে এসইও করে থাকি। আর এসইও যারা করি সবার সাইট কি রেঙ্ক করে? উত্তর হচ্ছে না। আমরা যদি একটি সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি তাহলে হয়তো এই বিষয়টা সম্পর্কে স্পষ্ট বুঝতে পারব। একটি ক্লাসে ১০০ জন স্টুডেন্ট আছে আর ১০০ জনের মধ্যেই সবাই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় না। এর কারণ হচ্ছে এটাই সিস্টেম। কেউ একই সাথে একই স্থানে একজনের বেশি থাকতে পারে না। আমরা যদি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ছাত্রদেরকে পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখব তাদের মধ্যে যে ক্রিটিভিটি আছে যা ৫০ নাম্বার ছাত্রের মধ্যে সেটা নেই। অর্থাৎ প্রথম ১০ জন ছাত্র যেভাবে তারা তাদের প্রতিদিনের পাঠ গুলো সম্পন্ন করে ৫০ থেকে ১০০ রোল নাম্বারধারী ছাত্ররা সেভাবে করে না। এজন্যই, প্রত্যেকের দক্ষতা অনুসারে শিক্ষক মন্ডলী ছাত্রদের গ্রেটিং নির্ধারিত করে দেয়। ঠিক গুগলের ক্ষেত্রেও একটি ওয়েবসাইটের জন্য এর ব্যতিক্রম নয়। গুগোল এর কাছে প্রতিটি ওয়েবসাইট একেকটি ছাত্রের মতো।

Learn more – Required to achieve how to succeed in life? Everyone works hard to achieve success in life. Some of them quickly reach the gold rush of success-

কিভাবে আমরা গুগল রেঙ্ক পেতে পারি?

কিভাবে আমরা গুগল রেঙ্ক পেতে পারি

গুগোল ব্যাঙ্ক পেতে হলে এখানে আলাউদ্দিনের কোন চেরাগ নেই। তাই সবাইকে কাজ করে যেতে হবে আর কাজ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। আমরা সাধারণত সবাই এসইওর ক্ষেত্রে ন্যাচারাল এসইও করে থাকি অর্থাৎ সবাই যা করছে আমিও তাই করি তাহলে আপনাকে গুগল রেঙ্ক পেতে একটু সময় লাগবে অথবা নাও পেতে পারেন। আপনি যদি অনলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিশেষভাবে এসইও করতে হবে। অর্থাৎ এটাকে বলা হয় টেকনিক্যালি এসইও সিস্টেম যেটা হয়তো অন্যজন জানেনা। প্রশ্ন হচ্ছে এটা কিভাবে শিখব আসলে এটা কেউ কাউকে শেখাও না। এটা আপনার ক্রিটিভিটি দিয়ে বের করতে হবে যে আপনি নতুন কিছু পারেন। তবে, আজ আমি গুগোল একটি সাইট রেঙ্ক করার ক্ষেত্রে যে বিষয়টিসবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় সেটা নিয়ে কিছু কথা বলব আর সেটা হচ্ছে ইউজার ফ্রেন্ডলি বা অপটিমাইজ কনটেন্ট পাবলিশ।

ইউজার ফ্রেন্ডলি বা অপটিমাইজ কনটেন্ট কি?

আমরা যখন কোন কিছু জানার বা খোঁজার জন্য গুগলে সার্চ করি তখন গুগল খুব সহজে বুঝতে পারে যে ইউজার কি চাচ্ছে। আর গুগোল এটা বোঝার পরপরই সে প্রথম পেজে দশটি সাইট এনে দেয়। সার্চ ইউজাররা দশটি সাইটের মধ্য থেকে হয়তো দুইটা তিনটা সাইটে প্রবেশ করে এবং তারা তাদের কাঙ্খিত সাইটটি পেয়ে যায় আর এভাবেই উক্ত সাইট গুলো গুগোল প্রথম পেজে চলে আসে। এবারও বুঝলাম না কেন গুগোল তাদেরকে প্রথম পেজে নিয়ে আসলো। তাদেরকে প্রথম পেজে নিয়ে আসার কারণ হচ্ছে ওই ওয়েবসাইটের মধ্যে এবং ওই পোস্ট বা পেজের মধ্যে এমন কিছু শব্দ বা সার্চ ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট আছে গুগোল খুব সহজেই ওয়েবসাইটগুলো ট্রাক করতে পেরেছে। অর্থাৎ আপনি যখন কোন পোস্ট বা পেজ -এ কনটেন্ট পাবলিশ করবেন যদি সেটা হয় ইউজার ফ্রেন্ডলি তাহলে সহজেই গুগোল আপনার সাইট টা ট্রাক করে ইউজারের সামনে নিয়ে আসবে। আর যদি আপনার কনটেন্ট ইউজার ফ্রেন্ডলি না হয় তাহলে গুগোল নিজেই আপনার সাইট খুঁজে পাবেনা।

ইউজার ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট কি?

যদি আমরা গুগল সার্চ বারে “অ্যাপেল” লিখে সার্চ করি তখন গুগোল কনফিউজ হয়ে যায় যে এই ব্যাটা আমাকে কি খোঁজার জন্য সার্চ করতে বলছে। তারপরও গুগোল প্রথম পেজে দশটি রেজাল্ট দেখায় কিন্তু এই দশটি রেজাল্ট বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন অ্যাপেল ফল, অ্যাপেল মোবাইল, অ্যাপেল ল্যাপটপ  বা অ্যাপেল ব্যান্ডের যত কিছু আছে তার মধ্য থেকেই গুগোল প্রথম পেজে যে কোন ওয়েবসাইট কে নিয়ে আসে। আবার যদি একজন গুগল সার্চ বক্সে “বেস্ট অ্যাপেল” লিখে সার্চ করে তখনো গুগোল কনফিউজ। তাহলে উপায় কি আর ইউজারই বা কিভাবে সার্চ করবে? আমরা যখন অনলাইনে কেনাকাটা বা কারো কিছু জানা বা কোন কিছু খোঁজার জন্য গুগল সার্চ বারে সার্চ করি তখন, আমাদেরকেও নির্দিষ্ট একটি কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করতে হয় যেটা আমরা খুঁজতে চাচ্ছি। তা না হলে গুগোলও আমাদের সঠিক তথ্য দিবে না। 

আপনি যখন একজন অনলাইন মার্কেটার তখন আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে ইউজাররা কি লিখে প্রোডাক্ট বা সেবাটি সার্চ করছে। আপনাকেও সেই রিলেটেড কিওয়ার্ড আপনার সাইটে পোস্ট বা পেজের মধ্যে বসাতে হবে। তা না হলে গুগোল আপনার সাইটকে সেরা দশের মধ্যে নিয়ে আসবে না। আর এটাকে “একজ্যাক্ট ম্যাচ কিওয়ার্ড” বলে অভিহিত করা হয়। টেকনিক্যাল কৌশলের মধ্যে এটা একটা কৌশল যা অনেক এসইও এক্সপার্ট মনে করে। তাই, অনলাইন মার্কেটিং করার সময় এসইও এই চ্যাপ্টারটা আপনাকে খুব ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। এবং অনলাইন মার্কেটিং প্লাটফর্মে আপনাকে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাহলেই হয়তো আপনি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলতা বয়ে নিয়ে আসতে পারবেন ইনশাআল্লাহ –

যাই হোক,  এসইও সম্পর্কে আপনাদের বেশ কিছু ধারণা দিলাম। জানিনা আমার এই ধারণাটি একজন অনলাইন মার্কেটার -এর জন্য কতটুকু ফলপ্রসূ হবে। আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি কেউ সামান্যতম উপকৃত হয় তাহলে আমি ধন্য। গল্পে গল্পে অনেক বেলা হয়েছে এখন তাই যাবার পালা। আগামী পর্বে কোন এক বিষয় নিয়ে লিখব। তাই, সে পর্যন্ত সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের এই সংক্ষিপ্ত এসইও পর্বটি শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ –  সবাই ভাল থাকবেন


Mizanur Rahman

Author

Mizanur Rahman


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *