আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে- আমাজনের কোন পণ্য এফিলিয়েশন করা অর্থাৎ, আমাজনের কোন প্রোডাক্ট যখন একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয় তখন তাকে “আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং” বলে। কোন পণ্য ওয়েবসাইট ছাড়াও বিক্রয় করা যাই কিন্তূ তাতে তেমন মুনাফা অর্জিত হয় না এবং এই পদ্ধতিটি কখনও কখনও ঝুঁকিও বটে যেটা থেকে আপনার আমাজন এফিলিয়েট একাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে। এজন্য এই মার্কেটিং করার সব থেকে বেস্ট পদ্ধতি হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রোডাক্ট প্রমোশন করা।

কিভাবে আপনি শুরু করবেন?

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে প্রথমেই যেটা বেশি প্রয়োজন তা হলো একটি ভালোমানের নিশ সাইট ডেভেলপমেন্ট করা। আপনি যদি মার্কেটিংয়ে একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তবে একটি সাইট তৈরি করতে যে খরচ লাগবে তা নিচে প্রদত্ত হলো-
১। একটি রিসার্স কৃত ডোমেইন ও হোস্টিং ১ বছরের জন্য- ৪,০০০/- টাকা
২। মিনিমাম ৫০,০০০ ওয়ার্ড ভাল মানের কন্টেন্ট প্রতি হাজারে ৮০০/- টাকা করে হলে কন্টেন্ট বাবদ ৪০,০০০/- টাকা
৩। একটি পেইড থিম ও একটি পেইড প্লাগিন যদি আপনি নেন তার জন্য আরও ৮,০০০/- টাকা
৪। যদি আপনি নিজে সাইট ডেভেলপমেন্ট না করেন তার জন্য একজন ডেভেলপারকে দিতে হবে ৮০০০/- থেকে ১০০০০/- টাকা এবং এটা ব্যাক্তিভেদে কম বেশি হতে পারে
৫। আরও কিছু ইন্সটুমেন্ট থাকে তবে উপরের ৪টাই প্রধান। আর এগুলো কমপ্লিট করতে পারলে আপনি প্রাথমিকভাবে মার্কেটিং আরম্ভ করতে পারবেন।

এবার আমরা দেখে আসি মার্কেটিং শুরু করার আগ মুহূর্তে আমাদের কত খরচ হবে-

  • ডোমেইন ও হোস্টিং- ৪,০০০/- টাকা
  • কন্টেন্ট- ৪০,০০০/- টাকা
  • থিম+প্লাগিন- ৮,০০০/- টাকা
  • ডেভেলপার- ৮০০০/- টাকা
  • সর্বমোট- ৬০,০০০/- টাকা

আমার মনে হয় যারা এই লেখাটি পড়ছে তাদের মধ্যে ৮০% মানুষ এবার এখান থেকে চলে যাবে অথবা আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং-এর ভূত তাঁদের মাথা থেকে নামিয়ে ফেলবে অথবা আমাকে গালিগালাজ করতে থাকবে। আমাকে গালি দিলেও আমার তাতে কোন এসে যাই না এতে করে শুধু আপনার মুখ কলংকিত হবে। আসল কাহিনী হচ্ছে মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে এটাই বিনিয়োগ করতে হবে।
তবে উপরের কাজ গুলো থেকে- ডোমেইন ও হোস্টিং এবং থিম ও প্লাগিন বাদে আপনি যদি সাইট ডেভেলপমেন্ট এবং কন্টেন্ট রাইটিং করতে পারেন তবে আপনার ৫০ হাজার টাকা সেভ হবে। কারণ আমি যে হিসাব দিয়েছি তা একজন বিগেনারের জন্য প্রযোজ্য নট অ্যাডভান্সড লেভেল।

পরামর্শ

আমি আমার বিগেনার ভাই/বোনদের বলবো আপনারা যদি শুনে থাকেন এই মার্কেটিং প্লাটফর্ম থেকে হিউজ পরিমান ইনকাম করা যাই তবে আমি বলছি এটা কোন মিথ্যা বা বানোয়াট কথা নই এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য। কিন্তূ আপনাদের এটাও ভাবতে হবে যারা প্রতি মাসে একটি নিশ সাইট থেকে মিনিমাম ১ লক্ষ্য টাকা ইনকাম করে তাদের সাইটটি কেমন অপ্টিমাইজ করা। নিশ্চয় ভালোমানের কন্টেন্ট এবং অন্যান্য ইনস্টমেন্টগুলো বিদ্যমান।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যাই- একজন গ্রামের মুদি দোকানদার সে প্রতিদিন ইনকাম করে ৫ শত টাকা যার প্রতিদিন ব্যাবসায়িক কাজে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কিন্তূ ওপর দিকে শহরের একটা ব্যাবসায়ী তার ব্যাবসায়িক কাজে প্রতিদিন খরচ ৫০০ টাকা। আপনি কি মনে করেন শহরের ওই ব্যাবসায়ীর ইনকাম প্রতিদিন ৫০০ টাকা নিশ্চয় না। কারণ যে প্রতিদিন ৫০০ টাকা খরচ করে তার প্রতিদিন ইনকাম ২/৩/৪ হাজার থেকেও বেশি।
এজন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনি যদি একেবারে এই প্লাটফর্মে নতুন হয়ে থাকেন এবং এখান থেকে ইনকাম করবেন এটা ভাবছেন তবে আপনাকে সঠিক গাইড লাইন নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে হবে তাছাড়া এখানে ভালো রোজগার করা সম্ভব না।


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *